রাজধানীর মহাখালী এলাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরো করার ঘটনায় স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
৩ জুল, ২০২৬
২ জুল, ২০২৬
শেরপুরে আদিবাসী শিশু ধর্ষণ-হত্যা: আসামির মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল
শেরপুরে ২০১৩ সালে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এক শিশুকে পাশবিক নির্যাতন ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অপরাধে আসামি কান্তি মারাকের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রেখেছেন উচ্চ আদালত। নিম্ন আদালতের দেওয়া সর্বোচ্চ সাজার রায়ের দীর্ঘ সাত বছর পর, ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিল শুনানি শেষে উচ্চ আদালতের একটি বিশেষ বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের এক বিকেলে শিশু বিথী দিওয়া বাড়ির বাইরে খেলতে গেলে আসামি কান্তি মারাক—যে সম্পর্কে তার দূর সম্পর্কের মামা—কৌশলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের তীব্র যন্ত্রণায় শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে আসামি তার নাক ও মুখ চেপে ধরে। এতে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থুলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেরপুরের স্থানীয় আদালত ২০১৯ সালে আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। দীর্ঘ সাত বছর পর উচ্চ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিষয়ক বিশেষ বেঞ্চ নিম্ন আদালতের সেই রায়ই বহাল রাখলেন। তবে আদালতের এই আদেশের পরও এখনই সাজা কার্যকর হচ্ছে না। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী আসামির জন্য এখনো সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
বিডিএলপিবি/এমএম
আপিল বিভাগের রায়: ৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ অবশেষে উন্মুক্ত হয়েছে। আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী, ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আর কোনো আইনি বাধা নেই। ফলে দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সরকারের সামনে আর আইনি প্রতিবন্ধকতা থাকছে না। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এ রায় দেন আপিল বিভাগ।
রায়ের পর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “আপিল বিভাগের এ রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে যে আইনি জটিলতা ছিল, তার অবসান হয়েছে। এখন ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ উন্মুক্ত হলো।”
তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে। রায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সংকট দূর করতে ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে আটকে ছিল।
মামলার পটভূমিতে জানা যায়, ২০১৭ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের চাকরিকালের ৫০ শতাংশ গণনা করে গ্রেডেশন তালিকা প্রণয়ন, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক সুবিধার দাবিতে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। ওই রিটের শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট রুল আংশিক মঞ্জুর করেন। পরে সেই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আপিল বিভাগ প্রধান শিক্ষক নিয়োগে থাকা আইনি জটিলতা দূর হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেন।
বিডিএলপিবি/এমএম
সাবেক আইজিপি বেনজীরের দুর্নীতির মামলায় আরও ৬ জনের সাক্ষ্য
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন আরও ছয়জন।
সাক্ষীরা হলেন- নারায়ণগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার মো.আব্দুল হাফিজ, চাঁদপুর হাজীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ মহাদেবপুরের সাব-রেজিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম, ভোলা চরফ্যাশনের সাব- রেজিস্ট্রার কাওসার খান, বন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুস সালাম, বাড্ডার সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম।
আজ বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে তারা সাক্ষ্য দেন। এরপর আদালত মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৬ জুলাই দিন ধার্য করেছেন। মামলাটির ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দিলে বেনজীর আহমেদ ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট আইনজীবীর মাধ্যমে সম্পদের হিসাব দাখিল করেন। হিসাবে তিনি ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন।
তবে দুদক-এর তদন্তে বেনজীরের নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ তিনি ১ কোটি ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৬২২ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।
এছাড়া তার নামে ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ থাকার প্রমাণ পেয়েছে দুদক, যা তার ঘোষণার তুলনায় ২ কোটি ৪০ লাখ ৪১ হাজার ২৯৮ টাকা বেশি।
দুদক-এর হিসাবে, বেনজীর আহমেদ ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।
সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ পাওয়ায় ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুদক-এর উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর বেনজীরের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুদক-এর উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম।
চার্জশিটে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা, এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ৩ মে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
বিডিএলপিবি/এমএম
১ জুল, ২০২৬
শিশু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামি খালাস
ভাওয়ালের শালবনে ছিন্নমূল একটি শিশুকে হত্যার দায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।
আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির, নোয়াব আলী ও আসাদ উদ্দিন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান।
আইনজীবী শিশির মনির গণমাধ্যমকে জানান, আদালত দুই জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে কেন পুলিশরা সাক্ষ্য দিতে এলো না সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দিয়েছেন।
২০০৫ সালের ৯ এপ্রিল ঢাকার শাজাহানপুর ওভারব্রিজের নিচ থেকে স্থানীয় জনগণ একটি ব্যাগসহ শংকর ও জাকিরকে আটক করে। তাদের ব্যাগে পাওয়া যায় একটি বালকের কাটা মাথা। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
২০১৬ সালের মার্চে মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে মো. রাজিব ওরফে গোলাম রব্বানি ওরফে শংকর চন্দ্র দেবনাথ এবং মো. জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার বিচারিক আদালত। এরপর নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি আসে হাইকোর্টে।
বিডিএলপিবি/এমএম
চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণ মামলায় কিশোরের ১০ বছরের আটকাদেশ
চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণ মামলায় আইনের সংঘাতে জড়িত এক কিশোরকে ১০ বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তার বর্তমান বয়স ১৮ বছর অতিক্রম করায় তাকে পৃথক ওয়ার্ডে রেখে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ রায় দেন।
আদালত সূত্র জানায়, ২০২১ সালে ফটিকছড়ি উপজেলায় ১৪ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক কিশোরীকে নিজ বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী এক কিশোর। ঘটনার সময় অভিযুক্তের বয়স ১৮ বছরের কম থাকায় শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী তার বিচার অনুষ্ঠিত হয়। ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরী গর্ভবতী হন এবং পরে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। জন্মের প্রায় দেড় বছর পর শিশুটি মারা যায়।
বিচার চলাকালে আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত, ভুক্তভোগী ও মৃত শিশুর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরিতে পিতৃত্ব পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে অভিযুক্তই মৃত শিশুটির জৈবিক পিতা বলে প্রমাণিত হয়।
চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, অপরাধটি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য হলেও ঘটনার সময় অভিযুক্ত শিশু হওয়ায় শিশু আইন, ২০১৩-এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বয়স ১৮ বছর অতিক্রম করায় শিশু আইন, ২০১৩-এর ৩৪(৫) ধারা অনুযায়ী তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তাকে অন্য বন্দিদের থেকে পৃথক ওয়ার্ডে রাখার নির্দেশ রয়েছে।
এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৩ ধারার আলোকে ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া মৃত শিশুটি দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সন্তান হিসেবে পরিচিত হওয়ার অধিকারী। শিশুর ভরণপোষণের অর্থ নির্ধারণ ও আদায়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিডিএলপিবি/এমএম
৩০ জুন, ২০২৬
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নাম্বার অভিযোগে তাকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল এবং বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনাল তাকে ৩, ৬ ও ৭ নাম্বার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। রায় ঘোষণার সময় কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন হাসানুল হক ইনু। এর মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ষষ্ঠ মামলার রায় ঘোষিত হলো।
ইনুর বিরুদ্ধে আনা ৮ অভিযোগ হলো-
প্রথম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক অ্যাখ্যা দেন ইনু। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা এবং হত্যারও নির্দেশ দেন তিনি।
দ্বিতীয় অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের সভা হয়। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’–এর সিদ্ধান্ত হয়। হাসানুল হক সেই সভায় উপস্থিত থেকে ‘শুট অ্যাট সাইটের’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা করেন।
তৃতীয় অভিযোগ, ছবি দেখে আন্দোলনকারী ছাত্র–জনতার তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আটক ও নির্যাতন করার জন্য কুষ্টিয়ার এসপিকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।
চতুর্থ অভিযোগ, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্রের ব্যবহার করা এবং ছত্রীসেনা নামিয়ে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বম্বিংয়ের পরিকল্পনা করার অভিযোগ।
পঞ্চম অভিযোগ, গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া। সরকারের গ্রহণ করা হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন–নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করা।
ষষ্ঠ অভিযোগ, ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
সপ্তম অভিযোগ, শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকা।
অষ্টম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন নামের ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যায় নির্দেশনা প্রদান। পাশাপাশি সারা দেশে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র–জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।
বিডিএলপিবি/এমএম
শপথ নিতে পারবেন না আসলাম চৌধুরী: আপিল বিভাগ
চট্টগ্রাম-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। ফলে তার ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এই রায় দেন। এর আগে ১৫ জুন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেছিলেন।
আদালতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। ব্যাংক এশিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এএসএম ইলিয়াস হায়দার। অপরদিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
ঋণখেলাপির অভিযোগের মুখে থাকা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিন গত ১৮ জানুয়ারি বৈধ ঘোষণা করা হয়।
সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ব্যাংকের করা রিট হাইকোর্ট খারিজ করে দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে আপিল বিভাগে আবেদন করে।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী লিভ টু আপিল করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। ফলে আসলাম চৌধুরী নির্বাচন করার সুযোগ পান। কিন্তু আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত থাকবে এবং ফলাফল প্রকাশ হবে না বলে আদেশ দেওয়া হয়। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হন। কিন্তু আদালতের আদেশের কারণে ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।
বিডিএলপিবি/এমএম
২৯ জুন, ২০২৬
মাতৃত্বকালীন ছুটি সীমিত করার বিধানের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ৪৬(২) ধারা এবং ৪৬(১) এর প্রভিসো এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের ১৯৭ নম্বর রুল মাতৃত্বকালীন ছুটি ও মাতৃত্ব সুবিধা সীমিত করে কেন সংবিধানের ৭, ১৫, ১৮, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বিষয়টি কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, সরকার কেন সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের কর্মজীবী নারীর জন্য সমান মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা ও মাতৃত্ব সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং কেন এ বিষয়ে একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (২৯ জুন) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব রুল জারি করেন।আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান, মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান ও ইফাত হাসান শাম্মি।
গত ১৫ জুন বাংলাদেশের কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনস্বার্থমূলক এ রিটটি দায়ের করা হয়। রিটে মন্ত্রীপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয় সচিবসহ মোট ১২ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা কোনও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নয়; এটি মা ও নবজাতকের মৌলিক স্বাস্থ্য, মর্যাদা, সমতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত। তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে এই অধিকার থেকে একজন কর্মজীবী নারীকে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানপরিপন্থি। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালা বিদ্যমান থাকায় কর্মজীবী নারীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে; যা সমতা ও আইনের সমান সুরক্ষার নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
পরে রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, বাংলাদেশের সব কর্মজীবী নারীর জন্য বৈষম্যহীন ও সমান মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এই রিট করা হয়েছে। মাতৃত্ব কোনও শাস্তির বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়। এই মামলার চূড়ান্ত রায় বাংলাদেশের মাতৃত্বকালীন অধিকার, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা এবং শ্রম অধিকার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
বিডিএলপিবি/এমএম
২৮ জুন, ২০২৬
স্ত্রী হত্যা মামলার ১১ বছর পর মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেলেন স্বামী
রাজধানীর উত্তরায় এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে অভিযুক্ত স্বামীকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট।রোববার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স খারিজ এবং আসামির আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেয়।
আদালতে আসামি মশিউর রহমান সুখনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও মো. এহসান হাবিব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ এজাজ কবির।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবির জেরে স্ত্রী সোনিয়াকে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ এনে ২০১৫ সালের ৮ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন মৃতের ভাই আব্দুল্লাহেল রাফী। এর আগে, ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই সোনিয়ার মৃত্যু হয়। মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এর বিচারক শরীফ উদ্দীন অভিযুক্ত স্বামী মশিউর রহমান সুখনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে সেই মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে আসামি জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল দায়ের করেন।
রায়ের পর আইনজীবী মো. এহসান হাবিব বলেন, মামলায় একাধিক অসংগতি ছিল, যা খালাসের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সোনিয়ার মৃত্যু ঘটে ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই, কিন্তু মামলা করা হয় ১৩ দিন পর, ৮ আগস্ট। তিনি আরও বলেন, সোনিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত করে একজন চিকিৎসক মৃত্যু সনদ দিলেও তাকে মামলায় সাক্ষী করা হয়নি। এ ছাড়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন গড়মিল ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
আইনজীবী আরও বলেন, সোনিয়ার মৃত্যুর পর বাদীপক্ষ তাকে স্বাভাবিকভাবে তার বাবার বাড়িতে দাফন করে। কিন্তু ১৩ দিন পর তারা ২৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে। তার দাবি, অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ আদালতের কাছে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সেই কারণেই হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করে আসামিকে খালাস দিয়েছে।
বিডিএলপিবি/এমএম